সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আজাদ মিয়া হত্যার দ্রুত ন্যায়বিচার চাই পণাতীর্থে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর ঢল শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল
দিরাই-শাল্লা মহাসড়ক প্রকল্প

দুর্গম যাত্রায় অপার সম্ভাবনার হাতছানি

  • আপলোড সময় : ০৪-০৩-২০২৬ ০৪:২১:২৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৪-০৩-২০২৬ ০৪:৩৩:৫২ পূর্বাহ্ন
দুর্গম যাত্রায় অপার সম্ভাবনার হাতছানি
*কাজে ধীরগতিসহ আছে নানা অনিয়মের অভিযোগ

বিশ্বজিত রায়শাল্লা থেকে ফিরে ::
হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের যোগাযোগ বঞ্চনা দূর করতে দিরাই-শাল্লা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটি মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রকল্পের অংশ। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জ থেকে দিরাই-শাল্লা ও হবিগঞ্জ হয়ে রাজধানী ঢাকার সাথে সড়ক যোগাযোগে নবদিগন্তের সূচনা হবে। এতে শাল্লা উপজেলাসহ আশপাশের মানুষ খুশি হলেও প্রকল্প কাজে ধীরগতি, নকশা পরিবর্তন, ভূমি জটিলতাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়দের। জানা যায়, দিরাই-শাল্লা এলাকার মানুষের এখনও ভরসা ‘বর্ষায় নাও, হেমন্তে পাও’। এখানকার মানুষের যোগাযোগ বঞ্চনা সুদীর্ঘকালের। জেলা কিংবা রাজধানী শহরে যেতে হাওরের দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয় তাদেরকে। যাতায়াত ভোগান্তির কারণে শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ হালের উন্নত সুযোগ-সুবিধা থেকে প্রায় বঞ্চিত তারা। সচেতনমহল মনে করছেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জীবনযাত্রা আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃষি, পর্যটন, যাতায়াতে সৃষ্টি হবে অপার সম্ভাবনা। জীবিকানির্ভর ধান ও মাছ ছাড়া বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এ হাওরাঞ্চলে। তবে সড়কের স্বার্থে রেকর্ডীয় জায়গা ছেড়ে দিলেও ক্ষতিপূরণ আদায়ে অনিশ্চয়তার অভিযোগ আছে। ভূমি মালিকদের মাঝে এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে।
গত শনিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের টেলিফোন বাজার অংশে মাটি ফেলা হচ্ছে। এখান থেকে তলবাউসী, সন্তোষপুরসহ একাধিক গ্রাম হয়ে পুরাতন সড়কটির অবস্থান। গ্রামসংলগ্ন পুরোনো সড়ক থেকে টেলিফোন বাজারের বামদিকে নেমে হাওরের মাঝ অংশ দিয়ে সেতু নির্মাণ কার্যক্রম দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তবে নকশা পরিপন্থী কাজ করে এখানকার মানুষদের মূল সড়ক হতে দূরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে দাবি করেছেন অনেকেই।
দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের তলবাউসী গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীর মিয়া বলেন, গ্রামের পাশ দিয়ে পুরাতন সড়ক হয়ে রাস্তা নির্মাণের কথা। কিন্তু টেলিফোন বাজার থেকে হাওরের মাঝ দিয়ে সড়কের কাজ হচ্ছে। বিগত সময়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে অফিসের লোকজন সরজমিনে এসে নকশা অনুযায়ী কাজের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। 
​আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সড়কের স্বার্থে অনেকেই জায়গা ছেড়ে দিলেও কেউই মূল্য পায়নি। কাজটি বাস্তবায়ন হোক কিন্তু ভূমি মালিকদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।
শাল্লা উপজেলার উজান যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা সন্দীপন তালুকদার বলেন, আমার জায়গা একোয়ার না করেই কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করে দিয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি আমি জায়গা সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে আবেদন করেছি। আবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলী। প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাওরের মাঝ বরাবর একাধিক গ্রামের পাশ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নির্মিতব্য সড়কটি। কোন কোন অংশে মাটি ফেলা, ব্লক তৈরি, ব্লক বসানো এবং সেতু নির্মাণের আনুষাঙ্গিক কাজ করছেন শ্রমিকরা। এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে একাধিক লোক সড়ক নির্মাণের বিষয়য়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও কাজের মান নিয়ে মুখ খুলতে চাননি কেউ। জানাযায়, দিরাই থেকে শাল্লা উপজেলার দূরত্ব প্রায় ১৯ কিলোমিটার। এই দূরত্ব কমাতে দিরাই চৌরাস্তা থেকে শাল্লা পর্যন্ত চার প্যাকেজে সড়কের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এ অংশে ১২টি সেতু ও ১৫টি কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। দিরাই-শাল্লা সড়কের দৈর্ঘ্য ২২ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ও প্রস্থ হবে ৭ দশমিক ৩০ মিটার। ইতিমধ্যে ১৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে সওজ। এর মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে ৫৪ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত ৫৮ দশমিক ৫৪ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ৪১ দশমিক ৪৬ ভাগ কাজ বাকি আছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
ধীরগতি ও অনিয়মের কারণে অসমাপ্ত প্রকল্পটি ২০২২ সালের ২৮ জুন নতুন করে একনেকে অনুমোদন হয়। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বাস্তবায়নাধীন দিরাই-শাল্লা সড়কের কাজ ২০২২-২৩ অর্থবছরে কাজটি শুরু হয়ে ২০২৬ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু দুর্যোগপ্রবণ পরিস্থিতি, অনিয়ম, ধীরগতির কারণে ফের সময়সীমা বর্ধিত করা হয়েছে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্পটি সুনামগঞ্জ-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরিগঞ্জ-হবিগঞ্জ মহাসড়ক প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত। কাজটি বাস্তবায়ন করছে জন্মভূমি নির্মাতা জনজেবি সহ একাধিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ১৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সুনামগঞ্জ থেকে দিরাই, শাল্লা, হবিগঞ্জ হয়ে রাজধানী ঢাকার সাথে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে বলে জানা গেছে।
সর্বক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের কথা জানিয়ে শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস বলেন, পশ্চাৎপদ এলাকা হিসেবে সংগ্রামী জীবনটাই আমাদের পাথেয়। এ সড়ক বাস্তবায়িত হলে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া’ হবে শাল্লা। কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া দিরাই ও সুনামগঞ্জ শহর থেকেও রাজধানী ঢাকার সাথে শাল্লাবাসীর যোগাযোগ অনেকটা সহজ হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সড়ক হচ্ছে। তবে সড়কের কাজে ব্যবহৃত ইটের খোয়া, কাটা পাথর, বালুসহ আনুষাঙ্গিক নির্মাণসামগ্রীর মান ভালো না। এতে কাজ টেকসই হবে না।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, টেলিফোন বাজার থেকে পুরাতন সড়ক হয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগটি সঠিক না। বাজার থেকে হাওরমুখী যে কাজ হচ্ছে সেটা নকশা অনুযায়ীই হচ্ছে। আর ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি এ প্রকল্পে ধরা হয়নি। ভূমি সংক্রান্ত বিষয়টি পরিমার্জন করে নতুন প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা আছে।

কাজ ধীরগতির ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রকল্পের পুরোটাই দুর্যোগপ্রবণ হাওর এলাকা। বছরের অর্ধেক সময়ই এই এলাকা জলমগ্ন থাকে। গড়ে চার থেকে পাঁচ মাস কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া নির্মাণসামগ্রী ক্যারি (বহন) করাটাও কষ্টসাধ্য। এসব কারণে কাজের গতি দুর্বল। তবে সড়কটি দৃশ্যমান হওয়ায় কাজ এখন দ্রুত শেষ হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স